মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭

নায়ক নন, মহানায়ক


July 24 2017 | 47


উত্তম কুমার পর্দার বাইরেও কিংবদন্তি হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন সাধারণের মধ্যে। সাধারণ মধ্যবিত্ত মেয়েদের কাছে সুদর্শন পুরুষ অথবা রোমানটিকতার সার্থক উদাহরণ ছিলেন উত্তম কুমার। নায়ক শব্দের আগে ‘মহা’ শব্দটি যোগ হয়েছিল সত্তরের দশকে। এটা কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়। জনসাধারণের ভালোবাসা আর মুগ্ধতা থেকেই এই শব্দটি জন্ম নিয়েছিল। ক্রমে ক্রমে ওঁর নামের পাশে এই বিশেষণটাই স্থায়ী হয়ে গেল। মহা অর্থে যদি বিরাট কিছু বোঝায় তাহলে উত্তম কুমার অবশ্যই মহানায়ক। ওঁর মতো বড় মাপের চলচ্চিত্রের নায়ক আর কেউ ছিলেন কি না জানি না, থাকলেও সেই বিরাটত্ব এত সুদীর্ঘকাল ধরে বজায় থাকেনি। সমগ্র দর্শক সমাজ এবং একটা গোটা ইনডাস্ট্রি ওঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছিল। ১৯৬৬-তে সত্যজিত্ রায় ‘নায়ক’ লিখেছিলেন উত্তম কুমারকে ভেবেই। বাংলা সাহিত্যেও অনেক গল্প এবং উপন্যাস লেখা হয়েছে উত্তম কুমারের কথা মনে রেখেই।

প্রণয়ী নায়ক থেকে সত্তরের দশকের শেষে এবং ১৯৮০-তে উত্তম কুমার যখন ক্রমে ক্রমে সরে গেলেন মাঝবয়সী ক্যারেকটার রোলে, তখনও বাংলা সাহিত্যে একটি মাঝ বয়সী লোককে মুখ্য চরিত্র করে গল্প বা চিত্রনাট্য রচনার প্রবণতা দেখা গেছে। বিগত যৌবনেও প্রণয়ী নায়ক রূপে উত্তম কুমার যে কতদূর গ্রহণীয় এবং আদরণীয় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘অমানুষ’। একটা যেমন তেমন ছবিও অনিবার্য ভরাডুবির হাত থেকে একাধিকবার বাঁচিয়ে দিয়েছেন উত্তম কুমার। এইসব ঘটনাই নায়ক উত্তম কুমারকে ক্রমে ক্রমে এমন একটা মর্যাদা এবং পরিত্রাতার ভূমিকায় পৌঁছে দিয়েছে যেখানে তাঁর পক্ষে ‘মহা’ বিশেষণটা প্রায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। যেহেতু সমসাময়িক কালের আর দশজন নায়কের চাইতে ফিলমে তাঁর ভূমিকা আরো বড় তাই তিনি শুধু নায়ক নন, মহানায়ক। (অংশ)

সূত্র: চিরদিনের উত্তম কুমার/লিয়াকত হোসেন খোকন
(অনিন্দ্য প্রকাশ, ২০১৬)

Facebook Comments