মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

এ বাঁধন যাবে না ছিড়ে


July 15 2017 | 135


শোবিজের ভাঙ্গা গড়ার খেলা চলে নিয়মিত। তাতে কি? কিছু যুগল যুগ যুগ ধরে হাতে হাত রেখে সংসার যাপন করছেন। যেখানে বর্তমান শোবিজ জগতকে মানুষ দেখছে সম্পর্ক ভাঙ্গনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে, সেখানে তাঁরা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে সুখে শান্তিতে। শোবিজে যারা নতুন সংসার পাতার কথা ভাবছেন তাদের জন্য তাঁরা আইডল। এরকম কয়েকটি জুটির খবর জানানো হচ্ছে।

হাসান ইমাম-লায়লা হাসান

বিবাহিত জীবনের ৫২ বছর পার করে দিয়েছেন তারকা দম্পতি সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসান। ৩০ জুন ছিল তাঁদের বিবাহবার্ষিকী। ছেলে, ছেলের বউ আর নাতিকে নিয়ে কেক কেটে বিশেষ এই দিন উদ্‌যাপন করেছেন তাঁরা। ১৯৬৫ সালের ৩০ জুন পারিবারিক আয়োজনে এ তারকাজুটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তারা সুখে-দুঃখে একে অন্যের পাশে রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাসান ইমাম বলেন, `আমার সংসার ও সন্তানদের আগলে রেখে এক সফল জীবনের পথে এগিয়ে নিতে লায়লার অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা দুজনই এখনো শারীরিকভাবে সুস্থ আছি। আগামী দিনগুলোও যেন এভাবে পার করতে পারি, সবার কাছে সে দোয়া চাই।`

আলী যাকের-সারা যাকের

আলী যাকের ও সারা যাকের দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন ভুবনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। মঞ্চের আলোয় আলোকিত এ দুই ব্যক্তিত্ব জীবনের প্রথম দিকে খুব স্বল্পসময়ের মধ্যেই বন্ধু বনে যান। পরিচয়ের পর চুপিসারে একে অন্যকে নিজের প্রিয় বই উপহার দিতেন। ইংরেজিতে বেশ কৌশলী চিঠি লিখতেন আলী যাকের। ঝরঝরা সুন্দর হাতের লেখা আর সাবলীল অনুভূতিতে মুগ্ধ হতেন সারা। তিনিও জবাবটা দিতেন মজা করে। মনের অজান্তে দিনে দিনে বন্ধুত্ব থেকে একসঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন তারা। অতঃপর তারা সুখের নীড় রচনা করে এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে ইরেশ যাকের ও শ্রিয়া সর্বজয়া। তারাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে পথ চলছেন।

আবিদা সুলতানা-রফিকুল আলম

দেশীয় সঙ্গীতের দুই শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আবিদা সুলতানা ও রফিকুল আলম। গান গাইতে এসে তারা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হন। এরই সূত্র ধরে ভালোলাগা, ভালোবাসা; অতঃপর বিয়ে। একই ছাদের নিচে তারা বসবাস করে দেশের সঙ্গীতপিপাসুদের এখনো গান শুনিয়ে মুগ্ধ করে চলছেন।

রামেন্দু মজুমদার-ফেরদৌসী মজুমদার

তারকাদম্পতি রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদার নাট্যাঙ্গনে ঈর্ষণীয় দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেছেন। ১৯৬১ সালে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ভর্তি হন। ফেরদৌসী বাংলা বিভাগে ও রামেন্দু মজুমদার ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো। ১৯৬৫ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর থেকেই তাদের মধ্যে বিয়ের ভাবনা জোরালো হতে থাকে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ধর্মের বেড়াজাল পেরিয়ে একে অন্যের গলায় মালা পরানো সত্যিই কঠিন ছিল। তার পরও শত বাধা ডিঙিয়ে ১৯৭০ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের কন্যা ত্রপা মজুমদারও বর্তমানে নাট্যাঙ্গনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

ইনামুল হক-লাকী ইনাম

ড. ইনামুল হকের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। অভিনয়ের সূত্র ধরে, এ নাট্যযুগলের পরিচয়; অতঃপর বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের মধ্যে কখনই টানাপড়েনের ঘটনা ঘটেনি। শুধু স্বামী-স্ত্রী নয়; তারা ব্যক্তি জীবনেও ভালো বন্ধু। তাদের সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে। তারা হচ্ছেন হৃদি হক ও পৈ্রতি হক। তাদের দুই জামাতা লিটু আনাম এবং সাজু খাদেমও অভিনয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

জাহিদ হাসান-মৌ

দর্শকপ্রিয় তারকা দম্পতি জাহিদ হাসান-সাদিয়া ইসলাম মৌ। তারা সংসার জীবনেও বেশ সফল। তাদের প্রথম পরিচয়ের একটি গল্প রয়েছে। জাহিদ হাসান তখন টেলিভিশনের শীর্ষ অভিনেতা। অন্যদিকে মৌ শ্রেষ্ঠ মডেল ও নৃত্যশিল্পী। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান `ইত্যাদি`তে তারা প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন। এতে তারা `আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে` গানে পারফর্ম করেন। শুটিংয়ের সময়ই নাকি তাদের সম্পর্কের সূচনা ঘটে! প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জাহিদ হাসান বলেন, `যখন এ নিউজগুলো ছাপা হয়, তখন আমাদের মধ্যে ততটা গভীর সম্পর্ক ছিল না। বরং এসব নিউজ আসার পর আমি ভেবেছি, আমাদের একটা গুড রিলেশন হলে কেমন হয়! কারণ তখন সারাক্ষণ এ ব্যাপারটা মাথায় থাকত।` যা হোক, সম্পর্কটা হয়েই গেল। কিন্তু জাহিদ হাসানকে কিছুতেই নিজের জামাই হিসেবে মানতে পারেননি মৌয়ের মা। তাই মৌকে ঘরে তুলতে জাহিদ হাসানকে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। নাট্যাঙ্গনে নিয়মিত কাজ করার পাশাপাশি বর্তমানে তারা সন্তানদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন পার করছেন।

নাঈম-শাবনাজ

১৯৯০ সালে বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা এহতেশাম তার নতুন চলচ্চিত্র `চাঁদনী`র জন্য দুজন নতুন মুখ বাছাই করেন। এরা হলেন নবাব পরিবারের ছেলে নাঈম আর বিক্রমপুরের মেয়ে শাবনাজ। প্রথম ছবিতেই তারা জুটি হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই ঘনিষ্ঠ হন তারা। শুরু থেকেই তাদের প্রেমকাহিনীর গল্প শোনা গেছে। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা ভেঙে ১৯৯৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ জুটি। তাদের ঘরে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে সংসার আর ব্যবসা নিয়ে তাদের সময় কাটছে।

ওমর সানি-মৌসুমী

দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সুখী দম্পতি চিত্রনায়ক ওমর সানি ও মৌসুমী। ইতোমধ্যেই তারা দাম্পত্য জীবনের ২০ বছর পূর্ণ করেছেন। `দোলা` চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাদের পরিচয় হয়েছিল। সে সময় তাদের মধ্যে ভালোলাগা তৈরি হয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার। সেই সঙ্গে তারা এখনো ক্যারিয়ার নিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

বিপাশা হায়াত-তৌকীর আহমেদ

জাহিদ হাসান-মৌয়ের মতো তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াতও জুটি হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তারকা দম্পতি হিসেবে তারা তরুণ প্রজন্মের কাছে রোল মডেল হয়ে আছেন। বর্তমানে তৌকীর আহমেদ অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণকাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, বিপাশা হায়াত ছবি আঁকা ও লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। বিপাশার বাবা স্বনামধন্য অভিনেতা আবুল হায়াত। তার বোন নাতাশা হায়াত ও ভগি্নপতি শাহেদ শরীফ খানও অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত।

Facebook Comments