মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

স্বপ্ন উড়ল আকাশে


July 05 2017 | 128


মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা। ময়মনসিংহের নান্দাইলের শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ মাঠের চারদিক ঘিরে রেখেছে একদল পুলিশ। কারো জানা নেই, এত নিরাপত্তা কেন। এক ঘণ্টার মধ্যে উত্সুক লোকজনের ভিড় জমে যায় পুরো এলাকায়।

১৪ জন পুলিশ, একটি পিকআপ, পাঁচটি মাইক্রোবাস ছাড়াও ১০-১২টি মোটরসাইকেল অবস্থান করছে। এর মধ্যে দূর আকাশে লাল রঙের একটি হেলিকপ্টার উড়ে আসে। এই শব্দে মানুষের ভিড় বাড়ে।

দুপুরে হালকা মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থেকে কলেজ মাঠে অবতরণ করে হেলিকপ্টারটি। যা থেকে নেমে এলেন সৌদিপ্রবাসী দেলোয়ার জাহান দুলাল (৩০)। তিনি উপজেলার পৌর সদরের চণ্ডীপাশা মহল্লার কৃষক মো. ইলিয়াছ উদ্দিনের ছেলে। তাঁর সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে নামলেন বাবা, মা মাহমুদা আক্তার, নানা কারি মফিজ উদ্দিন, বোন তানিয়া আক্তার ও ভগ্নিপতি আহম্মদ আলী।

পরিবারের লোকজন জানায়, দুলাল গত ১৩ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে আছেন। এর মধ্যে গত তিন বছর আগে দেশে এসেছিলেন। সেইবার ওয়াদা করেছিলেন বিমানবন্দর থেকে মা-বাবা, ভাইবোন ও নানা-নানিকে হেলিকপ্টারে চাপিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসবেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে এবার তাঁর ব্যতিক্রমী যাত্রা।

গত সোমবার থেকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন মা-বাবাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিমানে দেশে আসেন দুলাল। আগে থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করা হয়েছে। আর তা প্রস্তুত করতে সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টারে চড়েন পরিবারের পাঁচ সদস্য। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে গ্রামের বাড়ি নান্দাইলের পথে হেলিকপ্টার যাত্রা করে। ১২টা ৫০ মিনিটে নান্দাইল কলেজ মাঠে অবতরণ করে।

দুলাল বলেন, ‘খুব একটা লেখাপড়া করিনি। অল্প বয়সে মা-বাবার ইচ্ছায় বিদেশ পাড়ি দিই। আল্লার রহমতে ও মা-বাবার দোয়ায় আমি আজ প্রতিষ্ঠিত। আমার ইচ্ছা ছিল মা-বাবাকে আকাশে ওড়াব। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছি। এটা আমার জীবনে বড় পাওয়া। ’ বাবা ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, ‘ছেলের কথায় মনে হতো, এটা একটা পাগলামি। এখন ছেলের সঙ্গে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়িতে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। ’ নানা কারি মফিজ উদ্দিন (৬৫) বলেন, ‘এই জমানায় কয়জন সন্তান আছে মা-বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পারে? জীবনেও ভাবিনি হেলিকপ্টারে চড়তে পারবাম। অহনো স্বপ্ন স্বপ্ন মনে অয়। ’

Facebook Comments