মঙ্গলবার ১৭ অক্টোবর ২০১৭

কাশেম বিন আবুবাকার কে নিয়ে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা


May 04 2017 | 8173


কানিজ ফাতেমা: কাশেম বিন আবুবাকারের নাম শুনলাম গতকাল। ডেইলি মেইল এই ঔপন্যাসিকরে নিয়া কি নাকি রিপোর্ট লেখছে এরপর থেইকা ফেসবুক জুইড়া দেখতাছি তর্ক বিতর্কের ঝড়। হঠাৎ কইরা এই সাহিত্যিকরে নিয়া এতো আলোচনা দেইখা নিজের অজ্ঞতায় আমি হতবাক, আমি উনার নামই শুনি নাই অথচ উনি কিনা বাঙলাদেশের অন্যতম বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক!!!

বাসায় যেহেতু বইসা আছি, লিটারালি কোনও কাম কাজ নাই তাই উনারে নিয়া কিছু ঘাটাঘাটি করলাম আজ সারাদিন। ফুটন্ত গোলাপ বইটা কিছুক্ষণ পড়ার চেষ্টা করলাম।কিন্তু কয়েক পাতা পড়ার পর আর আগানো গেলো না। মনে হইতাছিলো বাণিজ্যিক বাঙলা সিনেমার চিত্রনাট্য পড়তাছি। যাক, এরপর উনার কিছু বইয়ের রিভিউ পড়লাম এবং সামগ্রিক আলোচনা থেকে যেইটা বুঝলাম উনি একটা নির্দিষ্ট পাঠক গোষ্ঠীরে টার্গেট কইরা লেখেন। উনার টার্গেটেড পাঠক গোষ্ঠীর কাছে উনার জনপ্রিয়তা যেমন আকাশচুম্বী ঠিক তেমনি বাদবাকি পাঠকের কাছে উনি ততোটাই অচ্ছুৎ। সেই বাদবাকি পাঠকগোষ্ঠী এমনকি উনার নামটা যে জানেন সেইটা স্বীকার করারেও প্রেস্টিজ ইস্যু মনে কইরা চাইপা যান। উনারে এইরকম ডিনায়েলের মূলে কাজ করে নিজেরে উন্নত রুচির বইলা প্রমাণ করার একধরণের শিশুসুলভ ইগো। যারা নিজেদের রুচিশীল পাঠক বইলা দাবী কইরা আসতেছেন তারা সেই কারণেই কাশেম বিন আবুবাকের যৌক্তিক সমালোচনা কম অযৌক্তিকভাবে এক ধরণের ট্রলিং কাম গালাগালি কইরা নিজেদের উন্নতি রুচির পরিচয় দিয়া যাওয়ার যারপরনাই চেষ্টা করতেছেন।

আজকের সারাদিনের আলোচনা পর্যালোচনার পর কাশেম বিন আবুবাকারকে বাঙলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক বইলাই আমার মনে হইলো। একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ, যাদের মধ্যে নারীরা বোরখা পড়ে কিন্তু পাশের বাড়ির কুদ্দুসের বুকের ঘ্রাণ নিতে চায়, যেই ইমাম সাহেব জায়নামাজে দাঁড়াইয়া পাশের বাড়ির ভাবীর শুকাইতে দেয়া অন্তর্বাসের গন্ধ কেমন তা মনে মনে ভাবে, যেই লোকটা বাসর রাতে স্ত্রীর স্তন দেইখা সুভানাল্লাহ বলে, যেই মেয়েটা বাতাসে উড়া আক্কাসের লুঙ্গির কথা ভাইবা রাত্রে বেলা শিহরিত হয়, সেই ক্লাসটারে আবুবাকার তৈরি করেন নাই। সেইটা আগে থেকেই তৈরি ছিল। ধর্মান্ধতা এবং বদ্ধ সমাজের মধ্যে এই ক্লাসের লোকগুলা আবুবাকারের লেখায় একটু মুক্তির নিঃশ্বাস নিছে। একটু কাল্পনিক স্বাধীনতার স্বাদ পাইছে। প্রেম কিংবা যৌনতারে আধুনিজ পোশাক পরিহিতা বাঙালি মধ্যবিত্তের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানাইয়া ফেলা এই উচ্চ রুচির পাঠকশ্রেনীর সমাজ বিশ্লেষণ ক্ষমতা দেইখা উনাদের বুদ্ধিবৃত্তির স্তর নিয়া হাসি পাইতাছে। প্রেম এবং যৌনতা দুইটাই অতি মৌলিক বিষয় মানবজীবনে। ধর্ম যতো বাঁধাই দেক এই অনুভূতি আজ পর্যন্ত সব ধর্মের বাধা অতিক্রম কইরা মানবসভ্যতার বিবর্তনের সূত্র ধইরাই প্যান্ট শার্ট পড়া আধুনিক একজন নারীর জীবনে যতটুকু প্রভাব ফেলবো ঠিক ততোটাই প্রভাবিত করবো বোরকা হিজাব পরিহিতা মুমিনারেও, এইটা তো অস্বীকার করার উপায় নাই।
এবং যারা তার সাহিত্যরে চটি বইলা লাফাইতাছেন তাদের কথা শুইনাও হাসি পাইতাছে। যৌনতা সকল সাহিত্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। তাই এইটা অবধারিত ভাবেই উইঠা আসে সকল ধরণের সাহিত্যে। হুমায়ূন আজাদ থেইকা শুরু কইরা হুমায়ূন আহমেদ প্রত্যেক সাহিত্যিকের লেখায়ই যৌনতা উইঠা আসছে। সেগুলা আপনার রুচি মোতাবেক দেইখা চটি না হইয়া সাহিত্য হইছে আর আবুবাকারের যৌনতার প্রকাশ গ্রাম্য বইলা, উনি স্ত্রী সঙ্গমের আগে বিসমিল্লাহ্‌ বইলা শুরু করায় তা আপনার রুচি মোতাবেক হয় নাই বইলা সেইটারে আপনি বানায়া দিলেন চটি।

কাশেম বিন আবুবাকারের সাহিত্য মান নিয়া আপনি সমালোচনা করতেই পারেন। লেখার মান অনুযায়ী উনি এবং ইমদাদুল হক মিলনরে আমার একই স্ট্যান্ডার্ডের মনে হয়। কিন্তু আপনাদের মানদন্ডে মিলন আরেকটু উন্নতি প্রজাতির লেখক যেহেতু মিলনের নায়িকারা শাড়ি, কামিজ পড়ে আর আবুবাকারের নায়িকারা পড়ে বোরকা। এইটা তো একধরণের নির্লজ্জ হিপোক্রেসি।এই ক্লাসের লোক যে আমাদের সমাজে আছে, এবং আসলে তাদের সংখ্যাই বেশি, আমরা তা ভুইলাই গেছিলাম। আবুবাকারকে ধন্যবাদ তাদের কথা মনে কইরাইয়া দেয়ায়। তাদের মানসিক অবদমন, ধর্মীয় পাশবিক নির্যাতন, ইত্যাদি অনেক কিছু আমাদের শেখার আছে এই লোকের লেখা থেকে।

Facebook Comments