রোববার   ২৬ মে ২০১৯   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৬   ২১ রমজান ১৪৪০

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
৭৯

স্ট্রিট স্টাইল!

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৯  

কোনো ধরাবাঁধা ট্রেন্ডে বেঁধে রাখা যায় না তারুণ্যের ফ্যাশনকে। প্রকৃতি থেকে সবুজ চুরি করে তরুণেরা তা ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। তাদের বন্ধুত্ব হয় গোধূলির গাঢ় লালের সঙ্গে। দুপুরের খামখেয়ালিপনায় যেসব বর্ণিল ঘুরে বেড়ায়, তা চোখে বুকে শরীরে মেখে তরুণেরা তাড়িয়ে দেয় মধ্যাহ্নের আলসেমিকে। আজ রঙিন স্কার্ট তো কাল লং থ্রিপিস। কেউবা ছেঁড়াখোঁড়া ডেনিমের সঙ্গে গায়ে চাপিয়ে আছে প্রিয় আরমানি। মেয়েদের কাঁধ থেকে নেমে আসা ব্যাগের লম্বা ফিতায়ও খোঁজ মেলে নানা কারুকাজের। খোলা চুলে গুঁজে দেয়া রকমারি হেয়ার এক্সটেনশন, গলায় শতপুঁতির মালা জড়িয়ে পায়ের আওয়াজ তুলে ব্যস্ত রাস্তা, ফুটপাত আর বিকালের কোলাহলগুলো জমিয়ে দেয় তারা।

কেউ বা নজর কাড়ে শরীরে আঁকা ট্যাটু দিয়ে। কারো বা পিয়াসিং, নোজ পিন-এয়ার পিনের দিকে ঝোঁক, কেউ আবার হাত-পায়ের নখগুলোকেই ক্যানভাস বানিয়ে সাজিয়ে নিয়েছে বিচিত্র আল্পনায়। কারো বা হাতভর্তি পুঁতি-পাথর-মেটালে। আজকাল চোখে পড়ে বাহারি হিজাবও। কত রকম কৌশলে চুল-মাথা ঢেকে রাখা হয়েছে একখানা লম্বা স্কার্ফ বা ওড়নার সহযোগে। তাতে গুঁজে দেয়া কত রকমের নকশা করা হিজাব পিন।

তরুণদের মনের বাড়ির খোঁজ করতে যাওয়াটা যেমন দুষ্কর, তেমনি তাদের ফ্যাশন কারখানার ঠিকানা অনুসন্ধান করতে যাওয়াটাও বোকামির। নিজস্ব স্টাইলে অটুট এ তরুণেরাই মোড় ঘুরিয়ে দেয় ফ্যাশন রুটের। আর্টি, চিক, ক্ল্যাসিক, এক্সোটিক থেকে রোমান্টিক স্টাইলের গোড়াপত্তন এ তরুণদের হাত ধরে। তাই ফ্যাশনে তারুণ্যের দাপট চিরন্তন। ক্যাম্পাসে, ক্লাস-করিডোরে, ক্যান্টিনে প্রতিদিন জন্ম হয় নিত্যনতুন ফ্যাশনের। এ ফ্যাশনের কোনো সংজ্ঞা নেই, নেই কোনো নির্দিষ্ট ধারা। এ ফ্যাশন কেবল তারুণ্যের, যার প্রতিনিধি প্রতিটি প্রজন্ম। কখনো পুরোদস্তুর দেশীয় তো কখনো প্রিয় রকস্টারের ওয়েস্টার্ন লুক, কখনো খুব ঢিলেঢালা তো কখনো আঁটসাঁট পরিপাটি। ক্যাম্পাস স্টাইলের বহুমাত্রিকতা সমৃদ্ধ করে ফ্যাশনের জমজমাট পরিসরকে।

তবে ক্যাম্পাস ফ্যাশনের প্রথম শর্তটা ‘কমফোর্ট লুক’। জামা থেকে শুরু করে ব্যাগ, বুট-সু-স্যান্ডেল কিংবা গগলস— সবকিছুতেই চাই আরাম আর স্বস্তির উপস্থিতি। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্টের চাপ যেমন রয়েছে, তেমনি নিয়ম করে বন্ধুদের সঙ্গে সময় করে আড্ডা দেয়ার প্রেসারও তো কম নয়! তাই পোশাক বাছাইয়ে প্রাধান্য পাবে আরামের বিষয়টি। কারণ আঁটসাঁট অস্বস্তির পোশাক পরে ক্লাসে মনোযোগী হওয়া যায় না, আড্ডা, হইচইয়েও না।

এ তরুণেরা হাল ফ্যাশনের খোঁজ যেমন রাখে, তেমনি তাদের কাছে ফ্যাশনের অনুপ্রেরণা ক্যাম্পাসেরই বন্ধুরা কিংবা চলতি পথে হঠাত্ চোখে পড়ে যায় এমন কোনো অপরিচিতর স্টাইল। গরমের টি-শার্ট স্কার্টের সঙ্গে দুই ফিতার হালকা স্যান্ডেল আর মাথায় বেঁধে নেয়া হালকা সিল্কের স্কার্ফ। সানগ্লাস, সানস্ক্রিন কিন্তু স্টাইলিশ তরুণীর ব্যাগেই থাকে।

শীতকালকে ডাকা হয় ফ্যাশনের ঋতু বলেও। গরমে যেমন বেছে বেছে সুতিকে প্রাধান্য দিতে হয়, শীতে পোশাক বাছাই করা যায় ইচ্ছামতো। প্রতিদিন নিত্যনতুন ট্রেন্ড তৈরি করে দেয় যারা, সেসব তরুণ আগে থেকে ঠিক করে দেয়া ড্রেস কোড মেনে চলবে, তা কি হয়! শনিবার যদি দেশী সাজের নির্মলতা দিয়ে ছুঁয়ে দেয় তারা তো রোববারে রক-ওয়েস্টার্ন। এমনি করে সপ্তাহভর প্রতিটি দিনই ফ্যাশন নিয়ে খুনসুটি চলে তারুণ্যের। সে খুনসুটির পাল্লায় পড়ে এ অঞ্চলের বহু পুরনো ঘাঘরা হয়ে যায় স্টাইলিশ স্কার্ট। কিংবা ধুতি কাটের বিবর্তনে একঘেয়ে সালোয়ারের কদর বেড়ে যায় রাতারাতি। লং কামিজের আড়ালে সৌন্দর্য অনেকটাই অব্যক্ত থেকে যায় বলে ধুতি কাট স্যালোয়ারের সঙ্গে শর্ট ফতুয়া। চটপটে তারুণ্যের এ ফ্যাশন ভাঙতে খুব একটা কালক্ষেপণ করতে হয় না। একদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সময় শর্ট কাট ফতুয়া কিংবা টপসের সঙ্গে ধুতি সালোয়ার পরে তাই ট্রেন্ড বদলে দেয় তরুণীরা। মায়ের প্রিয় ডিভাইডার সালোয়ার মেয়ের হাতে পড়ে হয়ে যায় পালাজ্জো।

নিত্যনতুন ফ্যাশন আর ট্রেন্ডকে সহজে আয়ত্ত করার পাশাপাশি স্টাইল নিয়ে নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট করতেও ছাড়ে না তারা। লুক নিয়ে খুব একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। কারণ তারা এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, ইচ্ছামাফিক যেকোনো একটা পোশাক বাছাই করে তাতে জুড়ে দেয় নিজেদের শৌখিন সব সৃষ্টিশীলতা।

এ বেলায় কেউ বোল্ড লুকে বিশ্বাসী তো কেউ সাবলীল সাদামাটায়। তাই বোল্ড লুকের বদলে নমনীয় সাজে হাজির হতে বেছে নেয়া যেতে পারে ডাস্কি রোজ ও মস গ্রিন রঙের কম্বিনেশন। উলে বোনা লম্বা হাতার সোয়েটার বা কার্ডিগান সোয়েটারের নিচে সাদা টি-শার্টের সঙ্গে সবচেয়ে প্রিয় জিন্সটি বেছে নিলে মন্দ হয় না। তবে এক্ষেত্রে বুটটি হওয়া চাই উঁচু গোড়ালির। গলায় পেঁচিয়ে নেয়া যায় রঙিন স্কার্ফ। চলতে পারে ক্যানভাস ওয়াইল্ডফউল ক্যাপ। বুট মানিয়ে যায় গাউন কাটের লম্বা কামিজের সঙ্গেও। লেগিংসের সঙ্গে উপরে বুক খোলা লেস সোয়েটার। চাইলে মাথায় পরে নেয়া যায় প্যাকার হ্যাট। কিংবা ছন্দময় রিপড জিন্সের সঙ্গে ফিটিং সোয়েটার আর কমব্যাট বুটস— এ শীতে ক্যাম্পাস স্টাইল জমে উঠুক তারুণ্যের নতুন দ্যোতনায়।

এই বিভাগের আরো খবর