সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
১৪১

সেতু বা রাস্তা তৈরির সময় কি ভবিষ্যতের কথা ভাবা হয়?

বিবিসি বাংলা

প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯  

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা এবং গোমতী নদীর উপর নতুন তৈরি দুটো সেতুসহ বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন । আগে থেকেই দুটো সেতু ছিল এই নদীগুলোর উপরে। কিন্তু সেগুলো মাত্র দুই-লেনের হওয়ার কারণে মহাসড়কটি চার লেন করার পরেও প্রায়শই সেখানে তীব্র যানজট লেগে থাকতো। এখন পুরনো দুটো সেতুর পাশেই আরো দুটো সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা আজ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলো। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হতে সময় লেগেছিল প্রায় আট বছর। চার লেনের নতুন মহাসড়কে যখন মোটামুটি গাড়ি চলতে শুরু করে - তখন দেখা দিল নতুন বিপত্তি।

কারণ মেঘনা এবং গোমতী নদীর উপর সেতু দুটো ছিল অপ্রশস্ত, মাত্র দুই লেনের - এবং সেগুলো সংস্কারেরও প্রয়োজন ছিল। ফলে প্রায়শই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে আট থেকে ১০ঘণ্টা সময় লাগতো। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় যদি সমন্বিত চিন্তা না থাকে তখন এ ধরনের বিপত্তি ঘটতে পারে। অধ্যাপক আলম বলেন, "ব্রিজকে সবসময় বলা হয় বটলনেক। এর সমাধান হচ্ছে, এই বটলনেক ছুটিয়ে দিতে হবে।" এই কাজ আগে না করে চার-লেন চালু করার বিষয়টিকে পরিকল্পনার ঘাটতি হিসেবে বর্ণনা করছেন তিনি। গত ১০ বছরে যোগাযোগের ব্যবস্থায় বহু প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেসব প্রকল্প শেষ হলে নতুন আরেকটি সমস্যা সামনে হাজির হচ্ছে।

বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করার পর দেখা গেছে যে নিচের রাস্তা কার্যত আর ব্যবহার উপযোগী থাকছে না । রাস্তা নির্মাণ কিংবা প্রশস্ত করা হলেও মানুষ পুরো রাস্তা ব্যবহার করতে পারছে না। মহাসড়কে রাস্তার ধারে হাট-বাজার কিংবা কিংবা বেপরোয়া গাড়ি পার্কিংসহ নানা কারণে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার প্রশস্ততা কমে আসছে। অর্থনীতিবিদ ড. আহসান মনসুর বলেন, শুধু রাস্তা -ব্রিজ বানালেই হবে না। এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সুশাসন প্রয়োজন। সেটি না হলে কাঙ্ক্ষিত উপকার আসবে না। "রাস্তা ব্যবস্থাপনার যে প্রচণ্ড অভাব, সেটা ঠিক না করলে শুধু রাস্তা বানিয়ে আমরা বেনিফিট পাবো না," বলছিলেন ড. মনসুর।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাসমুল আলম বলছেন, যখন একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তখন এর ভবিষ্যৎ প্রভাব কী হতে পারে সেটি অনেকক্ষেত্রেই চিন্তায় থাকে না। তিনি বলেন, একটি প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর করতে হলে সেটির সহায়ক আরো কী করা যাতে পারে - এই দিকগুলো অনেকে ক্ষেত্রে উপেক্ষিত থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবকাঠামো প্রকল্প পরিকল্পনা করতে গিয়ে অনেক সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে দ্রুত বর্ধনশীল - সে কথা চিন্তা করা হয় না।

তারা বলছেন, নির্মাণকালে সে সময় লাগে সে সময়ের মধ্যে জনসংখ্যা পরিস্থিতিও বদলে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘসময় ব্যয় করে কোন কাজ শেষ হবার পর দেখা যায়, সেই অবকাঠামোটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।

এই বিভাগের আরো খবর