সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
৩৪৩

ভোটের পাওয়া না পাওয়া

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮  

নির্বাচন আসছে, তাই দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বেগে বাড়ছে। একটা বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, যেই জিতুক, সরকার হচ্ছে কোয়ালিশনের। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা জিতলে হবে মহাজোট সরকার, আর হারলে আসছে ঐক্যফ্রন্ট সরকার। আর এ বিষয়টাও বেশ পরিষ্কার যে– এবার আর ২০১৪’র ৫ জানুয়ারির মতো অস্বস্তির নির্বাচন হচ্ছে না, হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

বড় দুটি দলকে যেভাবে ছোট ছোট দল ও ব্যক্তিকে সামলাতে হচ্ছে তা বেশ দেখার মতো। ছোট দলের বড় নেতারা বড় দলকে সমর্থনের বিনিময়ে প্রতিনিয়ত চাপ বাড়িয়ে বলছে এটা চাই, ওটা চাই। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে, সুশাসনের কথা বলে, কিন্তু নিজস্ব জনপ্রিয়তা নেই। তাই আসন যতটা চাপ দিয়ে নিয়ে নেওয়া যায়। চাইতে গিয়ে কেউ কেউ নাকি নিজের গাড়ি চালকের নামও তালিকায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে, এমন মসকরাও হচ্ছে। এরা আসন চায়, খুনের বিচার চায় না, বরং সেটা ভুলে যেতে পারলেই বাঁচে। এরা কোনও দুর্নীতির কথাও এখন উচ্চারণ করতে চায় না। জমজমাট ভোট নাটকের আরও অনেক পর্ব হয়তো দেখা বাকি আছে আমাদের।

মহাজোট জিতলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট জিতলে কে হবেন তার সরাসরি উত্তর নেই নেতাদের মুখে। বিএনপির কিছু কিছু নেতা বলছেন খালেদা জিয়াই হবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে দলের ভেতরে যে ধরনের রসায়ন, তাতে দেশে ফিরে তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী, এটাও সরবে উচ্চারিত। তারেক রহমানের ফিরে আসার ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট প্রধান ড. কামাল হোসেন বা সুলতান মনসুরদের অস্বস্তি হয়তো আছে, কিন্তু তা প্রকাশের কোনও উপায় নেই।

ভোট ঠিকঠাক মতো হলে, এই সমীকরণ সহজ। এর বাইরে ১/১১ মার্কা কোনও কিছু হবে কিনা সেই আলোচনা এখন নেই। নির্বাচন পরবর্তী সরকার কিভাবে দেশ চালাবে সেই সংশয় থাকছেই। শেখ হাসিনা তার বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে এগুবেন, উন্নয়ন আধিপত্য বজায় রাখতে চাইবেন, গ্রেনেড হামলার বিচার শেষ করতে চাইবেন এটা বোঝা যায়। বুঝতে পারা যায়, ত্বরান্বিত না করলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও বন্ধ করবে না। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের মোড়কে বিএনপি কী করবে, কিভাবে দেশ চালাবে তা নিয়ে অস্বচ্ছতা আছে। যদিও ঐক্যফ্রন্ট বলছে মেগা প্রকল্পগুলো চালু থাকবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিএনপির চড়া গলার সামনে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কণ্ঠ ক্ষীণ হতে হতে খুব দ্রুতই মিইয়ে যাবে। নানা ধরনের দুর্নীতির বিচার করতে গিয়ে বিদ্বেষ আরও উসকে ওঠে কিনা তাও ভাবনায় আছে। আর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ বন্ধ হবে বলেও আশংকা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ হেফাজতকে ব্যবস্থাপনার আওতায় এনেছে। আরও অনেকগুলো কিছু ইসলামী দলও তার সঙ্গে আছে। বিএনপির ২০ দলে সনাতনভাবেই আছে জামায়াতসহ কট্টরপন্থী কিছু দল। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে এই দলগুলোরই রমরমা অবস্থা। জাতীয় রাজনীতিতে এদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ভোটপণ্ডিতরা বলছেন, যারাই ক্ষমতায় আসুক, সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে  এরাই। ফলে দুই দলকে কেন্দ্র করে ইসলামী রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোনদিকে গড়ায় সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই এরশাদের জাতীয় পার্টি সক্রিয় হচ্ছে। সক্রিয় হচ্ছে আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতির বিকল্প ধারাও। নড়াচড়ার ইঙ্গিত দিয়েও শেষ পর্যন্ত ২০ দলেই চুপ করে আছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। নিবন্ধনহীন জামায়াত বিএনপির রাজনীতিকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকবে আগামী দিনগুলোয় সেটা একটা বড় গবেষণার বিষয়।

সবকিছুকে ছাপিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর যে সংসদ নির্বাচন হবে তার গুরুত্ব জাতীয় রাজনীতিতে অপরিসীম। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শ্লোগান পেছনে ফেলে গোড়ামির রাজনীতির বেপরোয়া মাতামাতি শুরু হবে কিনা সেই আশংকা আছে। বিশেষ করে ২০০১-এর নির্বাচনের পর সন্ত্রাস, সহিংসতা আর ধর্ষণের যে তাণ্ডব শুরু হয়েছিল সেই স্মৃতি এখনও তাড়া করে মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু জীবনকে। ড. কামাল ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো মানুষেরা কতটা সামাল দিতে পারবেন সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতের ভেতর বড় ধরনের প্রতিশোধস্পৃহা যদি বাস্তবায়নের পথ পায় তাহলে এই রাজনীতি দেশকে, দেশের মানুষকে আসলে কোনও লভ্যাংশ দেবে না। তবে এসবই আশংকা বা বিশ্লেষণ। হয়তো জামায়াত এই পথে হাঁটছেই না, ভাবছেও ভিন্ন কিছু।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ অনেক। উন্নয়ন যেমন চাওয়া, তেমনি অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি কমানোটাও প্রত্যাশা। ভোটের উৎসবের মধ্য দিয়ে রাজনীতি দিশা পায়। ভোটের এই অগ্নিপরীক্ষায় এখন লক্ষ্য সবার ৩০ ডিসেম্বরের দিকে। আমরা শুধু আশা করতে পারি যে, রাজনীতিতে সুবাতাস আসুক। বিদ্বেষের বেপরোয়া তাস খেলা শুরু না হোক। ফলাফল যাই হোক, দেশকে সমৃদ্ধির পথে নেওয়ার রাজনীতিই অব্যাহত থাকুক।
লেখক: প্রধান সম্পাদক, জিটিভি ও সারাবাংলা 

এই বিভাগের আরো খবর