সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
৩১৫

ভালো উদ্যোগের ফল শূন্য

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, জনসচেতনতা বাড়ানো ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টানা ১৭ দিন 'বিশেষ কর্মসূচি' পালন করেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। গতকাল শনিবার এ কর্মসূচি শেষ হয়। তবে গত কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, গাড়ি চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খলই। উল্টোপথে যেমন গাড়ি চলেছে, তেমনি যেখানে-সেখানে থেমেছে। যানজট ছিল আগের মতোই, কোনো কোনো এলাকায় তা অসহনীয় ছিল।

শৃঙ্খলা কার্যক্রমের মধ্যেই সড়কে বিশৃঙ্খলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে। পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহারে সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও দেখা গেছে তাদের বিশৃঙ্খল চলাচলের দৃশ্য। ১৭ দিনের মধ্যে ট্রাফিক আইনে পুলিশের ১৬ দিনের মামলার পরিসংখ্যানেও ফুটে উঠেছে সড়কে বিশৃঙ্খলার চিত্র।

গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) 'ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ' কার্যক্রম শুরু করে। সেদিন রাজধানীর জিরো পয়েন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৩১ জানুয়ারি বিশেষ এ কর্মসূচি শেষ  হওয়ার আগেই আরও দু'দিন বাড়িয়ে তা ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পথচারী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বেশকিছু বিষয় জানা গেছে। আলাপে তারা জানান, ট্রাফিক শৃঙ্খলায় পুলিশের এই উদ্যোগ ভালো। সড়কে পুলিশের তৎপরতার কারণে গাড়িচালক ও সহকারীদের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা মাঠে থাকায় দায়িত্ব পালনে মাঠ সদস্যরাও তৎপর ছিলেন। মানুষের মধ্যে সাময়িক সচেতনতা দেখা গেলেও যানজট, ভাড়া নিয়ে বচসা থেকে শুরু করে সড়কে বিশৃঙ্খলার দৃশ্য ছিল আগের মতোই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম সমকালকে বলেন, ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষের কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হলেও শৃঙ্খলা কিছুটা দৃশ্যমান হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘমেয়াদি কাজ। চূড়ান্ত ফল পেতে ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্নিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গাড়িচালক, মালিক ও পথচারীদের সচেতন হতে হবে।

এ কর্মসূচি চলাকালে মডেল করিডোর হিসেবে ঘোষিত ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আটটি পয়েন্টে অটোমেটিক ও রিমোট কন্ট্রোল সিগন্যাল বাতি চালু, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও ক্লাস শুরু ও শেষে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করাসহ ১১ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্যোগের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটস ও গার্ল গাইড কর্মীদেরও সম্পৃক্ত করা হয়। এর আগেও গত বছরের আগস্টে ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ট্রাফিক সপ্তাহ পালন, সেপ্টেম্বরে মাসব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা মাস পালন এবং অক্টোবরে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ পালন করা হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, শৃঙ্খলা পক্ষের মধ্যেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে বেশকিছু সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড মার্কিং দৃশ্যমান করা হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট পরার বিষয়টি প্রায় শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য দিক ছিল যেখানে-সেখানে গণপরিবহন থামানো নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া পুরো সময় গাড়ির দরজা বন্ধ রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। অবশ্য গত কয়েকদিনে দেখা গেছে, গণপরিবহনের এ চিত্র বদলায়নি। সড়কে লক্কড়ঝক্কড় বাস চলেছে। দখল হওয়া ফুটপাত উদ্ধার করে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থাও ঠিকমতো করা যায়নি। যানজটে দুর্ভোগের চিত্রও পাল্টায়নি। মডেল করিডোর হিসেবে ঘোষিত বিমানবন্দর থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভিআইপি সড়কের ইন্টারসেকশনগুলোতে অটোমেটিক ও রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সিগন্যাল পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোথাও সিগন্যাল বাতি মেনে গাড়ি চালানো যায়নি। ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় চলেছে গাড়ি।

পুলিশের মামলার পরিসংখ্যানেই ফুটে উঠেছে সড়কে বিশৃঙ্খল চিত্র :ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষের কড়াকড়ির মধ্যেই যে সড়কে বিশৃঙ্খলা ছিল, সে চিত্র ট্রাফিক বিভাগের মামলা ও জরিমানার পরিসংখ্যানে কিছুটা পাওয়া যায়। শৃঙ্খলা পক্ষ শুরুর দিন থেকে গত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে বিভিন্ন ধরনের ৯৫ হাজার ৮৩৫টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে ৬ হাজারের বেশি গাড়ি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন বা সড়কে বিশৃঙ্খলায় জড়িত ছিল। সবচেয়ে বেশি অন্তত ৪১ হাজার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার মোটরসাইকেল। পাশাপাশি ১৮ হাজারের বেশি বাস-মিনিবাস ও ১০ হাজারের বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা হয়। উল্টোপথে গিয়ে মামলায় পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার গাড়ি। বিশেষ এ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫০ টাকা।

এ সময়ের মধ্যে ১৫ হাজারের বেশি বাস-মিনিবাস, ৫ শতাধিক ট্রাক, প্রায় ২১ হাজার কাভার্ডভ্যান, চার হাজারের বেশি পিকআপ, সাড়ে ১২ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯ হাজার ৬৯৪টি প্রাইভেটকার ও জিপ এবং আড়াই হাজার মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৭ দিনের বিশেষ অভিযানে ৪০৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও বিভিন্ন ধরনের সাড়ে ১২ হাজার গাড়ি রেকারিং করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর