সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
৬৮

দিনাজপুরে বাড়ির ছাদে চাষ হচ্ছে আরবের আজোয়া খেজুর

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯  

সৌদি আরবের বিখ্যাত ‘আজোয়া’ জাতের খেজুর প্রাথমিকভাবে চাষ করে সফল হয়েছেন দিনাজপুরের মোঃ মাহাবুবুর রহমান। বাড়ীর ছাদে প্রাথমিকভাবে চাষ করা একটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে আরবের এই খেজুর। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ায় আজোয়া জাতের খেজুরের চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। বর্তমানে বাড়ীর ছাদের মাটিতে রোপন উপযোগী প্রায় ৬ শতাধিক চারা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩ শতাধিক বিচি থেকে চারা উৎপাদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে চুড়ান্তভাবে বড় পরিসরে জমিতে আজোয়া জাতের খেজুর চারা রোপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মাহবুবুর রহমান। ইতিমধ্যে আজোয়া জাতের খেজুর চাষ করে সফল হওয়া দেখে মাহবুবুর রহমানের কাছে গাছের চারা কিনতে আসছেন অনেকে।

দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার মোড় নিবাসী মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মোঃ মাহবুবুর রহমান নিজ বাড়ীর ছাদে গড়ে তুলেছেন একটি মিনি নার্সারী। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ীর ছাদে অসংখ্য গাছের চারা রয়েছে। ছাদে গেলেই নজর চলে যায় এক কোনার দিকে। সেখানে রয়েছে সৌদি আরবের বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেজুরের গাছ। বর্তমানে গাছটিতে ২টি থোকায় ঝুলছে সবুজ-গোলাপী-হলুদ বর্ণের বড় বড় খেজুর।

খেজুর চাষ করে সফল হওয়া মাহবুবুর রহমান জানান, তার বাবা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রায় ৩৫ বছর আরবের মদিনায় চাকুরীরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার সময় আজোয়া জাতের খেজুরের কিছু বিচি নিয়ে আসেন তিনি। মা শামসুন নাহার নিজ হাতে মাটির পাত্রে সেই বিচি রোপন করেছিলেন। তিনি জানান, আজোয়া জাতের গাছ সব সময় পরিচর্যা পছন্দ করে। যত ভালো পরিচর্যা করা হবে তত ভালো গাছটি থাকবে। গাছটি মাটিতে রোপনের প্রায় ৪ বছরের মাথায় প্রথম দিবে। সাধারণতঃ ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। তখন পুরুষ গাছ থেকে সংগ্রহ করা পরায়গনের পাউডার ফুলে ছিটিয়ে দিতে হয়। তাহলে গাছে খেজুরের ফলন ভালো হয়। যে দিন গাছে প্রথম ফুল আসে, সে দিনই ৩ থেকে ৪ বার পাউডার ছিটাতে হয়। বর্তমানে যে গাছের ২টি থোকায় খেজুর ধরেছে, তাতে আনুমানিক ১৫ কেজি খেজুর পাওয়া যেতে পারে। তবে এরপরের বছর এর থেকেও ৩ গুন বেশি খেজুর পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, সাধারণত আজোয়া জাতের খেজুর বাংলাদেশে চাষ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। যদি কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করে গাছ বড় করতে পারেন, তাহলে এই জাতের খেজুর চাষ করা সম্ভব। সাধারণতঃ দেশে বিভিন্ন জাতের খেজুর গাছের চারা পাওয়া যায়। সেই চারাগুলো থেকে ১টি গাছ পাওয়া যায়। কিন্তু সৌদি আরবের আজোয়া জাতের চারা যখন গাছে রূপান্তরিত হবে, তখন আরও চারা জন্ম দিবে। এই গাছ বড় হলেই গোড়া থেকে একই জাতের অন্য ছোট চারা জন্ম হতে থাকে। এই জাতের খেজুর গাছের গড় আয়ু হয় প্রায় ১০০ বছর। যা বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুর চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি জানান, আজোয়া জাতের গাছের জন্য পরাগায়ন খুবই জরুরী। কোন বাগানে যদি ২০টি গাছের চারা রোপন করা হয়, তাহলে সেই বাগানে ১টি পুরুষ গাছ রোপন করতে হবে পরাগায়নের জন্য। প্রথমে ১টি বিচিকে ১টি মাটির পাত্রে রোপন করতে হয়। তারপর গাছের চারা বড় হয়ে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি হলেই অন্য একটি বড় মাটির পাত্রে তা রোপন করতে হয়। ভবিষ্যতে দিনাজপুর শহরকে একটি খেজুতের শহরে পরিণত করার চিন্তা রয়েছে তার।

তিনি জানান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় অনেক চাষী এই আজোয়া জাতের খেজুর চাষ করে সফল হয়েছেন এবং তারা বিশাল বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন। সেই রকম বিশাল বাগান গড়ে তোলার চিন্তা করছেন তিনি। বর্তমানে তার বাড়ীর ছাদে রোপন উপযোগী চারা রয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক। এছাড়াও বিচি থেকে চারা প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও প্রায় ৩ শতাধিক। ১টি গাছ বিচি থেকে রোপন উপযোগী করতে তার ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। ইতিমধ্যে অনেকে যোগাযোগ করেছেন এই

গাছের চারা সংগ্রহের জন্য। সরকারীভাবে পৃষ্টপোষকতা পেলে আগামীতে বড় পরিসরে এই বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেজুরের চাষ শুরু করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।