সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
২১৩

‘জিরো মানে পরিপূর্ণ একটা বৃত্ত’ 

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৮  

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের নতুন ছবি ‘জিরো’ মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর বড়দিন উৎসবকে ঘিরে মুক্তি পাবে ছবিটি। আপাতত ছবির প্রচারে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই তারকা। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এসেছেন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে নিজের ছবি এবং ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। কথোপকথনের কিছু অংশ থাকল বাংলা পাঠকদের জন্য।

`‌জিরো`‌ ছবির ট্রেলার প্রকাশের চার দিনের মধ্যে রেকর্ড ৯০ মিলিয়ন দর্শক দেখেছে। রেকর্ড দিয়ে শুরু করলেন, অনুভূতি কেমন?

সত্যি খুব খুশির খবর। শুরুতেই মানুষের এত ভালোবাসা ‘জিরো’ ছবির গোটা টিমের কাছেই আনন্দের। সবচেয়ে বেশি খুশি আমাদের পরিচালক আনন্দ এল রাই( জিরো ছবির পরিচালক) কারণ তাঁর হৃদয় যতটা বড়, চাহিদা ঠিক ততোটাই কম। পঞ্চাশ মিলিয়ন, একশো মিলিয়ন তো সংখ্যা মাত্র। আসল হলো মানুষের ভালোবাসা।

ট্রেলারে আপনাকে বেঁটে চরিত্রে দেখে আপনার সন্তানরা কি বলেছেন?

‌‌(‌প্রাণ খোলা হাসি)‌ সত্যি বলতে কি, মেয়ে সুহানা একটু চিন্তিত হয়ে পড়েছে। পাছে আমি সত্যিই বেঁটে হয়ে যাই! বড় ছেলে আরিয়নের মনে হয়েছে ডিজনির কোনো চরিত্র। আর আব্রাম না দেখেই টু গুড টু গুড বলছে।

ছবির নাম `‌জিরো`‌ কেন‌?

এখানে জিরো মানে পরিপূর্ণ একটা বৃত্ত। মানুষের জীবনও তো একটা বৃত্তের মতো। চণ্ডীগড় শহরে গিয়ে থাকলে দেখবেন, সেখানে হাসপাতাল এবং শ্মশান একেবারে পাশাপাশি। জন্ম আর মৃত্যুর সহাবস্থান যাকে বলে। একটা বৃত্তপূরণের মতো। 

ছবিতে আপনার চরিত্রের নাম `‌বাউয়া সিং`‌। চরিত্রটি কেমন?‌ এই চরিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতাই বা কেমন?‌

‘বাউয়া সিং’এর মতো বেঁটে মানুষদের পৃথিবীর সব দেশেই দেখা যায়। বড় রেস্তোরাঁ থেকে পান দোকান-সবখানেই তাঁদের সরব উপস্থিতি। তাঁরা তো আম জনতারই অংশ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা নিজেরাই সব কাজ করতে চায়, করতে পারে। জয় করে প্রতিবন্ধকতাকে। বামন হয়ে জন্মানোটা কোনো অপরাধ নয়। তাঁরাও পারে সব বাধা টপকে এগিয়ে যেতে।

এই ছবিতে আনুশকা শর্মার চরিত্রটিও তো বেশ চ্যালেঞ্জিং...‌

আমারও তাই মনে হয়। আনুশকার চরিত্রটি সত্যি কঠিন। প্রায় এমনই একটা চরিত্রে আমি অভিনয় করেছিলাম `‌মাই নেম ইজ খান`‌ ছবিতে। আমার মনে হয় এমন একটি চরিত্র করতে ফিজিক্যাল কন্ট্রোল, ‌ফেসিয়াল মাসল কন্ট্রোল এবং কথার উপরে লাগাম প্রয়োজন হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করেছে আনুশকা। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষরা সত্যি সত্যি মনে করবে সে তাঁদেরই একজন। চরিত্রটির মধ্যে এতোটাই ঢুকে গিয়েছিলেন আনুশকা।

`‌জিরো`‌-‌তে আপনি চরিত্র নিয়ে যথেষ্ট পরিক্ষানিরিক্ষা চালিয়েছেন। সামনে এমন আরও কিছু করার পরিকল্পনা আছে?

আমি নিজের মতো করে চেষ্টা করি। আমার কাছে যেমন চিত্রনাট্য আসে, তেমন ছবি করি। তার মধ্যে যতটা পারা যায়, করছি। এখন আপনারা বলুন, আমাকে কী ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হবে? আমি করতে চাই (হাসি)। আসলে, এমন তো হয় না যে, নিজেই একটি গল্প বানালাম, তারপর পরিচালককে বললাম, এটা নিয়ে ছবি করো।‌ (‌পাশ থেকে পরিচালক আনন্দ এল রাই বলে ওঠেন,‌ আমরা বোধহয় খানসাহেব (‌শাহরুখ)‌-‌কে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি না। উনি কিন্তু বিষয় খুঁজে বেড়াচ্ছেন।)‌

নতুন কোনো ছবিতে চুক্তি করার সময় কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন- পরিচালক নাকি চিত্রনাট্য?

চিত্রনাট্য! সেটা কী আমি বুঝি না। চিত্রনাট্য নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আমার কাছে পরিচালকের ভালোবাসা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আড়াই বছর আগে আমি আনন্দ স্যার (‌আনন্দ এল রাই)‌-‌কে চিনতামও না। এখন আমার ফোনে আনন্দ স্যার-‌এর পাশে লেখা আছে, `‌তনু ওয়েডস মনু`‌ ডিরেক্টর। পাঁচ ছয় মাস একসঙ্গে ওঠা বসা করে একটা ভালোবাসার জায়গা তৈরি হয়। স্নেহ ভালবাসা ছাড়া আমি কোনো কাজ করতে পারি না।

২৭ বছর ধরে কাজ করার পরও ছবি মুক্তির আগে কতটা উদ্বিগ্ন থাকেন?

এখনও আমার মনে হয় যে, আমি আমার কাজ দিয়ে খুশি করতে পারলাম তো দর্শককে?‌ এই যে দর্শক আমার উপর ভরসা করছেন, সেটা যেন ধরে রাখতে পারি। ছবি মুক্তির আগে এমন উদ্বিগ্ন আমি হই।

নতুন ছবি নিয়ে কী ভাবনা?‌

সঞ্জয়লীলা বানসালি আমার ভাল বন্ধু। ওর পরবর্তী ছবিতে কাজ করার কথা চলছে। এছাড়া নভোচারী রাকেশ শর্মার ওপর একটি বায়োপিকের কাজ করব। অন্যান্য ভাবনাও আছে, চিত্রনাট্য পড়তেই থাকি। আরও নতুন খবর এলে অবশ্যই জানতে পারবেন।

এই বিভাগের আরো খবর