বুধবার   ২৩ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৮ ১৪২৬   ২৩ সফর ১৪৪১

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
২৬৭

এইচটিসির দিন কি শেষ?

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০১৯  

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তাইওয়ানভিত্তিক এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের আংশিক কিনে নেয় গুগল। অধিগ্রহণ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের অর্ধেক বা প্রায় দুই হাজার কর্মী গুগলের সিলিকন ভ্যালি কার্যালয়ে যোগদান করেন। এর পর থেকে এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গত দুই বছরে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে, স্মার্টফোন ব্যবসাকে কি তাহলে বিদায় জানাল এইচটিসি?

প্রিমিয়াম স্মার্টফোন নির্মাতা এইচটিসির দিন শেষ হয়ে যায়নি। ডিভাইস ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘ নীরবতার পর এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গুগল সম্প্রতি তাদের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন ‘গুগল আই/ও’তে পিক্সেল ৩এ স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। ডিভাইসটি উন্নয়ন করেছে গুগলের তাইওয়ানভিত্তিক কর্মীবাহিনী। অর্থাৎ এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের আংশিক অধিগ্রহণের চুক্তির আওতায় যে কর্মীরা গুগলের সিলিকন ভ্যালি কার্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন, তারাই পিক্সেল ৩এ স্মার্টফোন উন্নয়ন করেন।

২০১৮ সালের গ্রীষ্মে নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ইউ১২ প্লাস উন্মোচন করেছিল এইচটিসি। এরপর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আর কোনো নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন বাজারে ছাড়া হয়নি বা নতুন ডিভাইস-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মিলেনি। এবার এইচটিসির পক্ষ থেকে বিদ্যমান ডিভাইসগুলোর জন্য অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ ‘অ্যান্ড্রয়েড পাই’ হালনাগাদ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, স্মার্টফোন ব্যবসাকে এখনো বিদায় জানায়নি এইচটিসি। বিদ্যমান ডিভাইসের জন্য অ্যান্ড্রয়েডের হালনাগাদ দেয়ার ঘোষণার অর্থ হলো, মোবাইল হার্ডওয়্যার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে এইচটিসি ইউ১১ ডিভাইসটি প্রথম অ্যান্ড্রয়েড পাই হালনাগাদ পাবে। অন্যদিকে এইচটিসি ইউ১২ প্লাস ডিভাইসটি এ হালনাগাদ পাবে জুনের প্রথম দিকে এবং এইচটিসি ইউ১১ প্লাস জুনের শেষ দিক থেকে অ্যান্ড্রয়েড পাই হালনাগাদ পাবে। বিষয়টিকে এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া যারা এইচটিসির স্মার্টফোন পছন্দ করেন, তাদের জন্য সুসংবাদ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কোনো ব্র্যান্ড ডিভাইস ব্যবসা গুটিয়ে নিতে চাইলে তারা বিদ্যমান ফোনের জন্য সফটওয়্যার হালনাগাদ দেবে না। অর্থাৎ স্মার্টফোন ব্যবসা নিয়ে এখনো হাল ছেড়ে দেয়নি এইচটিসি।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে একটা সময় অ্যান্ড্রয়েড হালনাগাদ আনার ক্ষেত্রে অন্য ডিভাইস নির্মাতাদের চেয়ে এগিয়ে থাকত এইচটিসি। ডিভাইস বাজারেও প্রিমিয়াম স্মার্টফোন সরবরাহের মাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৬ সালের দিকে ডিভাইস ব্যবসা নিয়ে সংকটে পড়ে এইচটিসি। বিভিন্ন উপায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১১০ কোটি ডলারে গুগলের কাছে নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের আংশিক বিক্রি করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময় থেকে ধারণা করা হচ্ছিল, এইচটিসি হয়তো আর স্মার্টফোন ব্যবসায় থাকবে না। কিন্তু সে ধারণা সঠিক নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

এইচটিসি তাদের স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগের আংশিক বিক্রির পর ভাইভ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হার্ডওয়্যার ব্যবসায় গুরুত্ব আরোপ করে। প্রতিষ্ঠানটির এ বিভাগের কার্যক্রম এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে।

এইচটিসি গুগলের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে আগেই জানিয়েছিল, চুক্তিটি তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন কৌশল নিয়ে এইচটিসির এগিয়ে যাওয়াকে সমর্থন করবে। গুগলের সঙ্গে চুক্তি তাদের প্রডাক্ট পোর্টফোলিও আরো উন্নত করতে সহায়তার পাশাপাশি পরিচালন সক্ষমতা এবং আর্থিক নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এইচটিসি অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়ে সর্বোত্কৃষ্ট মোবাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।