সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
৩০৯

অমিতজিকে একলা ছাড়তামই না

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০১৮  

এখনো ছবি মুক্তির আগে উত্তেজনায় রাতে ঘুমাতে পারেন না বলিউড সুপারস্টার আমির খান। আজই মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত থাগস অব হিন্দোস্থান ছবিটি। এই ছবিতে তিনি প্রথম মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করছেন। ছবি মুক্তির আগে গত রোববার আমির খানের বান্দ্রার ফ্ল্যাটে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন কিছু সাংবাদিক।

২২ বছর পর আবার দিওয়ালিতে আপনার ছবি মুক্তি পেতে চলেছে। ২২ বছর আগে এই সময় আপনার ‘রাজা হিন্দুস্থানি’ মুক্তি পেয়েছিল। কেমন লাগছে?
(একটু ভেবে) রাজা হিন্দুস্থানি ২২ বছর হয়ে গেল! তার মানে দিওয়ালিতে আমার দুটো ছবি মুক্তি পেল। আশা করি, রাজা হিন্দুস্থানি ছবির মতো সফলতা থাগস অব হিন্দোস্থান যেন পায়।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রথম অভিনয় করলেন। কী রকম অভিজ্ঞতা?
অমিতজির সঙ্গে কাজ করা আমার বহু দিনের স্বপ্ন। একবার কাজ করার সুযোগ এসেছিল। মহরত হয়েও পরে ছবিটা হয়নি। তখন ভেঙে পড়েছিলাম। অবশেষে সুযোগ পেলাম। এটা আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। জানেন, অমিতজিকে একলা ছাড়তামই না। সেটে তাঁর সঙ্গেই থাকতাম। নানা প্রশ্ন করতাম। মাল্টাতে তাঁর হোটেল রুমে বসে সময় কাটাতাম। শুটিংয়ের সময় দেখেছি, অমিতজি প্রচুর রিহার্সাল করেন। আমি ভাবতাম, সব থেকে বেশি বুঝি আমিই করি। শট দেওয়ার আগে ৫০ থেকে ৬০ বার তিনি সংলাপ বলতে থাকেন।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে প্রথম শটের কথা মনে আছে?
নিশ্চয় মনে আছে। প্রথম শট ট্রেলারে আছে। আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। তবে খুব ভালো হয়েছিল। আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই যে আমাদের দুজনের প্রথম শট। তাঁর খেয়ালই ছিল না। আমি নাচ খুব একটা পছন্দ করি না। তবে এই ছবিতে অমিতজির সঙ্গে নেচে খুব উপভোগ করেছি। তিনি এই ছবিতে অনেক দিন পর অ্যাকশন করেছেন।

কারও অভিনয় পছন্দ হলে অমিতাভ বচ্চন নিজের হাতে চিঠি লেখেন। আপনি কখনো এমন চিঠি পেয়েছিলেন?
১৮ বছর আগে অমিতজি আমাকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। লগন দেখার পর। সম্ভবত আমাকেই প্রথম চিঠি লিখেছিলেন তিনি। আমার কাছে এটা সেরা কমপ্লিমেন্ট।

আপনি লুক নিয়ে খুবই সতর্ক থাকেন। এই ছবিতে আপনার লুক নিয়ে কোনো ইনপুট ছিল?
ছবিতে একটা নাকছাবি পরেছি। এর ডিজাইন স্কুলের এক বন্ধুর থেকে নেওয়া। একবার আমার ক্লাসে একটা ছেলে আসে, যার নাকে নাকছাবি ছিল। আমরা খুবই অবাক হয়েছিলাম। পরে সে আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়। ওর নাকছাবিটা আমার খুব প্রিয় ছিল। এই ছবির চরিত্রটা যখন মনে মনে আঁকছিলাম তখন মনে হলো, ওই রকম একটা নাকছাবি চরিত্রের জন্য খুব প্রয়োজন। তখন বন্ধুকে ফোন করে বললাম, নাকছাবিটার কোনো ছবি আছে কি না। ও জানাল, নেই। তারপর স্মৃতির ওপর জোর দিলাম। নাকছাবিটার ছবি আঁকলাম। নাকছাবিতে লাল-সবুজ পাথর ছিল। এ ছাড়া টুপি, ধুতি, জামা এসবের ডিজাইন বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়েছি।

এই ছবি আপনার আম্মি আর ছেলে আজাদের কেমন লাগল?
আম্মির খুব ভালো লেগেছে। তবে আজাদ বিরতি পর্যন্ত ছবিটা দেখেছে। ও মারপিটের ছবি দেখতে ভয় পায়। কার্টুন বেশি পছন্দ করে। সারা দিনে তার আধা ঘণ্টা সময় কার্টুন দেখার জন্য বরাদ্দ। ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের সময় আজাদ কিরণের (স্ত্রী কিরণ রাও) দোপাট্টা দিয়ে বারবার মুখ ঢাকছিল।

দুই ‘দঙ্গলকন্যা’ সানিয়া-ফাতিমা খুব ভালো কাজ করছেন। আপনার কেমন লাগছে?
ওদের জন্য আমি খুবই গর্ববোধ করছি। সানিয়ার পটাকা, বাধাই হো ছবি দুটি দারুণ সাড়া পেয়েছে বলে আমি জানি। এগুলো ছাড়া স্ত্রী ও আন্ধাধুন আমি আর কিরণ দেখব বলে ঠিক করেছি। দঙ্গল-এর পর ফাতিমার প্রথম ছবি থাগস অব হিন্দোস্থান। জাইরা ওয়াসিমও (দঙ্গল-এর আরেক অভিনেত্রী) খুব ভালো কাজ করছে। সিক্রেট সুপারস্টার ছবির পর আরও একটা বড় ছবিতে সুযোগ পেয়েছে। ফারহান আখতার আর প্রিয়াঙ্কা আছে ওই ছবিতে।

হিন্দি ছবির নতুন এক দুনিয়া চীন। এর কৃতিত্ব আপনারই প্রাপ্য। কেমন লাগছে?
আমি মনে করি, এই কৃতিত্ব চীনের বাসিন্দাদের পাওয়া উচিত। দঙ্গল ছবিটি প্রথম সেখানে মুক্তি পায়। এর সফলতা সবার সামনে আসে। কিন্তু তার আগেও থ্রি ইডিয়েটস, ধুম থ্রি, রং দে বাসন্তী, পিকে, লগন—এসব ছবির পাইরেটেড ভার্সন সেখানে দারুণ হিট করেছিল। ওরা সাবটাইটেল বানিয়ে ছবি দেখত। এমনকি সত্যমেব জয়তের সাবটাইটেল বানিয়েছে চীনারা।

আপনাকে বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলা হয়। ছবি নির্বাচনের সময় এই তকমা অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে?
না, চাপ নিই না। কারণ, ছবির বাছাইয়ের সময় আমি দর্শকের কথা ভাবি না। শুধু দেখি চিত্রনাট্য আমাকে রোমাঞ্চিত করছে কি না। তবে ছবি মুক্তির আগে আমি রীতিমতো চাপে থাকি। ছবিটা তো করে ফেললাম, এবার দর্শক কীভাবে নেবেন! এখন সেই চাপে আছি। আমি আর অমিতজি প্রথম কাজ করলাম। তার ওপর খুব বড় বাজেটের ছবি।

কোনো বিটাউন সুন্দরীর ওপর ক্রাশ খেয়েছেন?
আমি শ্রীদেবীর বিশাল বড় ভক্ত। শ্রীদেবী আমার ক্রাশ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখায় আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। একটা ম্যাগাজিনের কভারে ফটোশুটের সুযোগ আসে। জুহুর একটা হোটেলে ফটোশুট হয়। আমি কিছুতেই তাঁর চোখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না। কারণ, তাঁর চোখের দিকে তাকালেই আমি ভেঙে পড়ব। আর তাঁর প্রতি আমার ক্রাশ আছে, সেটা ধরা পড়ে যাবে। এমনকি সেদিন শ্রীদেবীর সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে পারিনি।

শ্রীদেবীর সঙ্গে একটা ছবিও আপনি করতে পারেননি। এ নিয়ে নিশ্চয় আক্ষেপ আছে?
হ্যাঁ, খুবই আফসোস আছে। আমি ভীষণভাবে চেয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে ছবি করতে। ভাট সাহেবের (পরিচালক মহেশ ভাট) কাছে সেই ইচ্ছার কথা বলেও ছিলাম। হলিউড ছবি রোমান হলিডের মতো একটি ছবিতে শ্রীদেবীর সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। ভাট সাহেবকে আমি প্রস্তাব দিই। কিন্তু শেষমেশ ছবিটা হয়নি। রোমান হলিডে দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পরে দিল হ্যায় কে মানতা নেহি ছবিটা হয়।

শাহরুখ খানের ‘জিরো’ ছবির ট্রেলার কেমন লাগল?
জিরোর ট্রেলার আমার দারুণ লেগেছে। এই ছবির স্পিরিট দুর্দান্ত। ছবির সংলাপ, গল্প, চরিত্র সবকিছুই অভিভূত করেছে। আনন্দ এল রাইয়ের গল্প বলার মধ্যে দৃঢ়তা আছে। আর শাহরুখ, আনুশকা (শর্মা), ক্যাটরিনা—এরা প্রত্যেকেই দুর্দান্ত কাজ করেছে।

পরবর্তী কোন ছবিটি করতে চলেছেন?
এখন শুধুই থাগস অব হিন্দোস্থান নিয়ে ব্যস্ত আছি। এ ছাড়া কিছু পরিকল্পনা আছে। তবে এখন বলতে চাই না (সশব্দে হেসে)।

এই বিভাগের আরো খবর