সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

amar24.com|আমার২৪
সর্বশেষ:
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২শ’ গজের মধ্যে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ‘এরশাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে’ ওয়ান ইলেভেনে আশরাফের বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল : প্রধানমন্ত্রী
২৬০

অন্ধের দেশে আয়নার ফেরিওয়ালা

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০১৯  

রাজিব আহমেদ: জীবনে এমন কিছু করে যাও যা বারবার লিখবার মতো, আর এমন কিছু লিখে যাও যা বারবার পড়বার মতো।’ এই ব্রতকে সামনে রেখে যিনি নিরলস কাজ করে চলছেন, তিনি সব্যসাচী প্রকাশক সিকদার  আবুল বাশার। যদিও নিজেকে তিনি ‘অন্ধের দেশে আয়নার  ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। (অনলাইন থেকে নেওয়া)

বাংলাদেশের প্রকাশনাশিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তী বইশিল্পী সিকদার আবুল বাশারের পরিচিতি বহুমাত্রিক। তিনি একাধারে লেখক, গবেষক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও অঙ্কন-শিল্পী।

বাংলাদেশে যদি কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে তবে অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, কবি-লেখকের চাইতে প্রকাশকের সংখ্যা  আরও বেশি (নইলে এতো বইপত্র ছাপছে কারা)! লেখক হতে তাও সৃজনশীল মন লাগে; শুদ্ধ বানানচর্চায় ঘাটতি থাকলেও পেশাদার বানানবিদের সাহায্য নেয়া যায়। কিন্তু বর্তমান জামানায় প্রকাশক হতে এসবের কিছুই লাগে না! লেখক লিখে দেন, কম্পিউটার অপারেটর টাইপ (কম্পোজ) করেন, প্রুফরিডার বানান সংশোধন করেন, সিনিয়র অপারেটর বইয়ের মেক-আপ দিয়ে ট্রেসিং তোলেন; ওদিকে প্রচ্ছদশিল্পী কভার ডিজাইন করেন, আউটপুট বের হয়; তারপর কাগজ বিক্রেতার সরবরাহকৃত কাগজে সবকিছু ছাপা হয়ে বাঁধাইখানায় ভাঁজ করে কাটিং ও বাঁধাই হয়; এরপর ছাপানো কভারে লেমিনেশন করে বইয়ের মোড়ক পরিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এক একটি বই প্রকাশের নেপথ্যে এই যে বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা বলা হলো, অধিকাংশ প্রকাশক তা করেন আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে। বাংলাদেশে এমন অনেক স্বনামখ্যাত প্রকাশক রয়েছেন, যাঁরা প্রকাশনা অঙ্গনে নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা রাখছেন, এমনকি সরকারের সঙ্গে দর কষাকষিও করেন, কিন্তু প্রকাশনার নেপথ্য কর্মযজ্ঞের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সংযোগ বা সম্পৃক্ততা অতিশয় ক্ষীণ।

এই বাস্তবতায় যে মানুষটি পরম মমতায় নবীন-প্রবীণ কবি-লেখকের পাণ্ডুলিপি হাতে তুলে নিয়ে বানান ও ভাষাগত সংশোধন, সংযোজন করে, মেকাপ দিয়ে মুদ্রণ উপযোগী করে তুলছেন ; তারপর নিপুণ হাতে আকর্ষণীয় ডিজাইন করে প্রেস ও বাঁধাইখানায় নিজের প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে প্রকাশ করে চলেছেন, তিনি এক ও অনন্য বইশিল্পী সিকদার আবুল বাশার।

বাংলাদেশের আর কোনো প্রকাশক এতো নিবিড়ভাবে প্রকাশনা-কর্মে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। সৃষ্টিশীল উদ্যমী এই মানুষটি একের পর এক মানসম্পন্ন ও দৃষ্টিনন্দন প্রকাশনার মাধ্যমে শুধু প্রকাশনা শিল্পকেই বিশেষ মাত্রা দেননি, বরং নিজেকেও অভিষিক্ত করেছেন বিশেষ মর্যাদায়। তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ‘গতিধারা’ পেয়েছে বিদ্যুৎ-গতি, অধিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনাসংস্থায়।

সব্যসাচী প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার বাবা-মায়ের অষ্টম সন্তান হিসেবে শৈশব কেটেছে কিছুটা অনাদর ও অবহেলায়। লেখাপড়ায় তাঁর হাতেখড়ি কুপির আলোয়, বাড়ি থেকে কয়েক মাইল হেঁটে কলেজে যেতেন। ঢাকায় এসেছিলেন কপর্দকশূন্য অবস্থায়, শিল্প-সাহিত্যের টানে শুরু করেছিলেন ‘গতিধারা’ নামক পত্রিকা প্রকাশনা, যেটি ছাপানোর প্রয়োজনে প্রথম তাঁর বাংলাবাজারের বইপাড়ায় পদার্পণ।

সেই সিকদার আবুল বাশার এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রকাশকের মর্যাদায় আসীন। কিন্তু তিনি তাঁর অবস্থানকে জলাঞ্জলি দিয়ে নবাগত প্রকাশনা-কর্মীর মতো এখনো নিজ হাতে সবকিছু সামলাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

নিভৃতচারী এই মানুষটি অসংখ্য কবি-লেখক-গবেষকের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার পাশাপাশি লাভ করেছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি। ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালে পরপর তিনবার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পী নির্বাচিত হওয়া ছাড়াও ২০০৮ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি কর্তৃক সেরা মানের বই প্রকাশের জন্য বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।

পাণ্ডুলিপি নির্বাচন থেকে মলাটবন্দি করে বই প্রকাশ পর্যন্ত সবকিছু একহাতে সামলানো যে সিকদার আবুল বাশারের পেশাগত প্রত্যয়,  সেই তিনি বিশ্বাস করেন প্রত্যেক মানুষই সংগ্রামী। সংগ্রাম করে টিকে থাকাতেই মানব-জন্মের সার্থকতা।

তিনি মনে করেন, জন্ম যে পরিমণ্ডলেই হোক না কেন, প্রত্যেক মানুষের উচিত তার জীবদ্দশায় অন্তত তিনটি সৎকর্ম করা। প্রথমত বৃক্ষরোপণ, দ্বিতীয়ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা এবং তৃতীয়ত অন্তত একটি বই লিখে রেখে যাওয়া। কারণ মানুষই একমাত্র প্রাণী, যে মৃত্যুর পরেও পৃথিবীর বুকে রেশ রেখে যেতে পারে জ্ঞান বিতরণের বই তৈরির মাধ্যমে।

যে কোনো পশু বা প্রাণীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর মাটি থেকে তার অস্তিত্ব চিরতরে হারিয়ে যায়, মানুষও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ব্যতিক্রম সেই মানুষেরা, যাঁরা কিছু লিখে রেখে যান- ছাপার অক্ষরে মলাটবন্দি হয়ে তা পৌঁছে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

সংগ্রামী বইশিল্পী সিকদার আবুল বাশার সেই কারিগর, যিনি মানুষকে তার জীবদ্দশায় তো বটেই, মৃত্যুর পরেও অমর করে রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন।

বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকাশক যেখানে বই ছাপানোর আগেই আর্থিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশে ব্যতিব্যস্ত, বাশার সেখানে তরী ভাসিয়েছেন প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে। সবাই যখন জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল কবি-লেখকের পেছনে ছুটছেন, বাশার তখন খুঁজে বের করেন মফস্বলের ইতিহাস-প্রেমী প্রচারবিমুখ লেখকটিকে- একটি বই প্রকাশ যার আজন্ম লালিত স্বপ্ন, কিন্তু আর্থিক সঙ্গতির অভাবে ছাপাতে পারছেন না, পোকায় কাটছে তার সারাজীবনের পরিশ্রম-লব্ধ পাণ্ডুলিপি, তেমন লেখকেরাই সমাদৃত হন ‘গতিধারা’য়।

আর সব প্রকাশক যখন আগাম টাকা ছাড়া বই ছাপাতে গররাজি, সিকদার আবুল বাশার তখন নিজ উদ্যোগে ও সামর্থ্যে বই ছেপে দরিদ্র, অসহায় লেখকের বাড়িতে পৌঁছে যান তাঁর প্রাপ্য সম্মানীসহ।

যে বাঙালি জাতির রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ যার অহংকার, সেই বাংলাদেশের চৌষট্টি জেলার আঞ্চলিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চারণ ইতিহাস বেরিয়েছে প্রকাশনা জগতের অগ্রদূত ‘গতিধারা’ থেকে বাশারের একক প্রচেষ্টায়। ভাবা যায়!

যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের, সংস্কৃতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, বাংলা একাডেমির, এশিয়াটিক সোসাইটির, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র অথবা বিদেশি সাহায্য-পুষ্ট কোনো এনজিও বা ইতিহাস চর্চাকেন্দ্রের, সিকদার আবুল বাশার সেই গুরুভার এককভাবে নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। নিজে উদ্যোগী হয়ে লিখিয়ে নিয়ে প্রকাশ করেছেন চৌষট্টি জেলার মুক্তিযুদ্ধ ও আঞ্চলিক ইতিহাস। উদ্ধার করেছেন কালের অতলে হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থসমূহ, তারপর তা পুনঃপ্রকাশ করে অতীতকে করেছেন চিরস্থায়ী। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন সৃজনশীল সাহিত্যচর্চা যত আন্তর্জাতিক মানেরই হোক না কেন, একটা সময়ের পর তা কালের অতলে হারিয়ে যায়।

বহু নামী-দামী কবি-লেখক একসময় বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, কিন্তু শতাব্দী ঘুরতে না ঘুরতেই তাঁরা বিলীন হয়ে গেছেন। যাঁর বই না পড়লে ঘুম আসত না- এমন অনেক জনপ্রিয় ও পাঠকপ্রিয় লেখকের বই এখন কেউ খুলেও দেখে না। কিন্তু আঞ্চলিক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইয়ের আবেদন কখনোই ফুরাবে না। বহু শতাব্দী পরেও কেউ না কেউ তার কদর করবেন।

নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই মানুষ তার অতীতকে জানতে চায়, পূর্ব-পুরুষের কাছে ফিরে যেতে চায়। এই চাওয়াটা চিরন্তন। এখানেই ইতিহাস বইয়ের মাহাত্ম্য, এবং সে কারণেই ‘গতিধারা’র সার্থকতা।

বাশার মনে করেন, ইতিহাসচর্চা মানে জাতির শেকড় অনুসন্ধান। শেকড় দুর্বল হলে গাছ যেমন দাঁড়াতে পারে না, ইতিহাসের বইও তেমনি সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্যচর্চার পটভূমি।

‘গতিধারা’ প্রকাশনাসংস্থার প্রায় সকল বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী সিকদার আবুল বাশার নিজেই। ভয়ংকর দৃষ্টিগ্রাহ্য সেইসব প্রচ্ছদ দেখলে যে কেউ তাঁর শিল্পবোধের প্রেমে পড়ে যাবেন। কোমল হৃদয়ের অধিকারী অসম্ভব বিনয়ী এই মানুষটি দুঃস্থ ও এতিমদের জন্য আবার অতিশয় দরদী। আর জীবনের মধ্যভাগে পৌঁছে ইদানীং স্বপ্ন দেখছেন একটি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম গড়ার, যেখানে কোনো একসময় নিজের জন্যও একটি শয্যা বরাদ্দ করিয়ে নেবেন! ইতোমধ্যে জমি ক্রয়ের মাধ্যমে সেই মহা কর্মযজ্ঞের সূচনা  হয়ে গেছে। দরকার শুধু সকলের সহযোগিতা।

অন্যান্য প্রকাশকের মতো সিকদার আবুল বাশার শুধু তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘গতিধারা’র শীর্ষাসনটিতে আরোহন করেই ক্ষান্ত হননি, বরং এখনো নিজহাতে গতিধারার কর্মীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। ক্রেতা এলে নিজেই বই ঝেড়ে-মুছে দেখান। সুভাষণ, আন্তরিক ব্যবহার আর প্রয়োজনীয় তথ্যের যোগান দিয়ে নিমিষেই হরণ করে ফেলেন ক্রেতার হৃদয়। আবার ‘হক কথা ফক-করে’ বলতেও দ্বিধা করেন না। তাঁর বিশ্বাস ও নীতির বিরুদ্ধে তাঁকে দিয়ে কোনো কিছু করানো সম্ভব নয়। স্পষ্টবাদী এই মানুষটির মনে যদি কোনো বিষয় একটিবার গেঁথে যায়, লাভক্ষতির হিসাবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি তার শেষ দেখে ছাড়েন।

কর্মপ্রাণ এই মানুষটি প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অবধি তাঁর কর্মস্থলে বসে নিমগ্নচিত্তে কাজ করে যান। ‘সকল কাজের কর্মী’ সিকদার আবুল বাশার কিভাবে যে সবকিছু সামলান, নিজের চোখে খুব কাছ থেকে না দেখলে লিখে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

কাজের  প্রয়োজনে তাঁর কাছে কোনো শুক্র-শনি নেই। এমনকি পবিত্র ঈদের দিনে সমগ্র বাংলাবাজারে যখন সুনশান নীরবতা বিরাজ করে, মান্নান মার্কেটের দোতালায় ‘গতিধারা’র আট ফুট বাই এগার ফুট ঘরটিতে তখনো বাতি জ্বলে! কাজের প্রয়োজনে যিনি ছুটির আমেজকে অনায়াসে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারেন, সাফল্য তাঁর পদধূলি ছুঁতে যাবে-এটাই তো স্বাভাবিক। আর এভাবেই অন্ধের দেশে আয়না বিক্রির ফেরিওয়ালা

সিকদার আবুল বাশার আমাদের মনের অন্ধত্ব ঘোচাতে ছুটে চলেছেন বিরামহীন।

সিকদার আবুল বাশারের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
জন্ম ১৯৬৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঝালকাঠি জেলার তারুলি গ্রামে। বাবা আবদুস সামাদ সিকদার, মা সৈয়দা আশরাফুন নেছা (ফকেরুননেছা)। তাঁর দাদা তাহসিন উদ্দিন সিকদার মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় বিশেষ পারদর্শিতা ও ন্যায়বিচারের জন্য মুন্সিমিঞা খেতাবপ্রাপ্ত। সিকদার আবুল বাশার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নিয়েছেন তারুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝালকাঠি সরকারি মহাবিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি পুস্তক প্রকাশনা, প্রচ্ছদ অংকন ও গবেষণাকর্মে নিয়োজিত। প্রকাশনাশিল্পে তাঁর খ্যাতি সর্বজনবিদিত।

২ ডিসেম্বর ২০১২ জাতীয় কবিতা পরিষদ, বরিশালের উদ্যোগে জীবনানন্দ মেলা ’১২ প্রকাশনায় বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে সংবর্ধনা দেয়। ২৮ ডিসেম্বর ২০১২ ঐতিহ্যবাহী চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ তাদের ৩৫ বর্ষপূর্তি উৎসব-এ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রকাশনায় অবদান রাখার জন্য পদক প্রদান করে। ৩ মে ২০১৫ সিলেট থেকে সাপ্তাহিক নকশী বাংলা’র উদ্যোগে সংবর্ধনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেন। ৯ মে ২০১৫ অবিরাম উন্নয়ন সংস্থা, নাটোর থেকে সিকদার আবুল বাশার-এর সংবর্ধনা ও স্যুভেনির প্রকাশ হয়। তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পরিচালিত জেলা-উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রকল্পের ঝালকাঠি জেলার গবেষণা-সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল ঝালকাঠি জেলার ইতিহাস ও পটুয়াখালী জেলার ইতিহাস।

তিনি যৌথভাবে বৃহত্তর বাকরগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেন। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থসহ চৌষট্টি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চৌষট্টি জেলার আঞ্চলিক ইতিহাস ঐতিহ্য-গ্রন্থসমূহ প্রকাশনায় তাঁর ভূমিকা পথিকৃতের। এইচ. বেভারেজ বি.সি.এস-এর দি ডিস্ট্রিক্ট অব বাকেরগঞ্জ : ইটস হিস্টরি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস গ্রন্থের অনুবাদক হিসেবে নন্দিত। ছোটোদের জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক অনেকগুলো গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি পর পর দুই বার (২০১১-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৬) বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত অন্যতম পরিচালক ও বাংলা একাডেমি’র সদস্য। ভ্রমণ করেছেন আমেরিকা, ইংল্যন্ড ও ভারত।